Falcon Feed

ত্রাণ নয়, অবরোধ ভাঙাই উদ্দেশ্য: গাজাগামী ফ্লোটিলায় শহিদুল আলম — “নাগরিক হিসেবে লড়াই করব”

ত্রাণ নয়, অবরোধ ভাঙাই উদ্দেশ্য: গাজাগামী ফ্লোটিলায় শহিদুল আলম — “নাগরিক হিসেবে লড়াই করব”

গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ও দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহিদুল আলম ঘোষণা করেছেন যে তাদের লক্ষ্য ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া নয় — তারা একটি ‘অবৈধ অবরোধ’ ভাঙার সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। এই অভিযানে শহিদুলের থাকা জাহাজটি বহরের বড় জাহাজ এবং তাদের সঙ্গে মোট ৯টি যানবাহন মুক্ত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন তথ্যপ্রবাহ সীমিত; তাই তারা নিজস্ব আপডেট দিতে থাকবেন।শহিদুল আরও জানান, জাহাজে সাংবাদিক, চিকিৎসক ও নানান অঙ্গনের কর্মী রয়েছেন। তারা সরাসরি যুদ্ধ বা হিংসা আহ্বান করছেন না বলে দাবি করলেও স্পষ্ট করে বলছেন—তারা “ত্রাণের আড়ালে লুকিয়ে” যাবেন না; তাদের উদ্দেশ্য হলো অবরোধ ভাঙা এবং বন্দী ও মারা যাওয়া নিরপরাধ মানুষের ওপর ইসরায়েলের কর্তব্যহীনতা ও হত্যাকারিতার প্রতিবাদ জানানো। তিনি এমএসএফ-এর (Medicins Sans Frontieres) ১৪ চিকিৎসক নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, কূটনৈতিক নেতারা যারাই কিছুর জন্য নীরব বা অনাকম্পাস, নাগরিক হিসেবে তাদের যা করা উচিত, তারা তা করছেন।শহিদুল জানান, বর্তমানে সমুদ্র আরামদায়ক হলেও পরিবেশ দ্রুত বদলে যেতে পারে; গতকালের ঝড় ও অসুবিধা ওদের প্রভাব ফেলেছিল। নিজের সাময়িক অসুস্থতা কাটিয়ে তিনি পূর্ণতায় যুদ্ধবিরতির বাইরে দাঁড়িয়ে লড়াই ও প্রতিবাদের প্রতি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। জাহাজে থাকা ৯৬ মানুষের মধ্যে ৮২ জন গণমাধ্যম ও চিকিৎসা পেশাজীবী — বাকিরা আয়োজক ও ক্রু।তার এই কর্মকাণ্ডকে অনেকে নাগরিক অসহযোগিতার নয়া এক রূপ হিসেবে দেখছেন—যেখানে সরকারীয় ব্যর্থতা বা কূটনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার দায়ভার নিয়ে নাগরিকরা সরাসরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে একই সঙ্গে উদ্বেগও রয়েছে—সমুদ্রপথে এমন উদ্যোগ নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনি জটिलতা বাড়াতে পারে। তদন্ত, কূটনৈতিক আলোচনা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান ছাড়া এই ঘটনাটি বিশ্ব দরবারে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র : যমুনা টিভি

Related Articles