আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়া বা থাকা থেকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের প্রিন্টিং ও প্রকাশনা শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়।গেজেটে বলা হয়েছে, আইসিটিতে কারও বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা বর্তমান পদে থাকা—উভয় ক্ষেত্রেই অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ, কেউ যদি এমপি পদে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত হন, তবে তিনি আর পদে থাকতে পারবেন না।এছাড়াও, এমন ব্যক্তি কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে—যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন বা জেলা পরিষদের—সদস্য, কমিশনার, চেয়ারম্যান, মেয়র কিংবা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত বা নিয়োগপ্রাপ্ত হতে পারবেন না। একই সঙ্গে, তাঁরা প্রজাতন্ত্রের কোনো দপ্তরে চাকরি বা অন্য কোনো সরকারি পদেও অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না।গেজেটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি ট্রাইব্যুনাল থেকে খালাস পান বা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান, তবে এই বিধান তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ, নির্দোষ প্রমাণিত হলে তিনি পুনরায় এসব পদে অধিষ্ঠিত হতে বা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্জনের পথ রুদ্ধ করল। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যুদ্ধাপরাধসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নৈতিক ও আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গেজেটটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে তা পাঠানো হবে, যাতে প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের সময় এই বিধান কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
