Falcon Feed

রপ্তানি খাতে নজরদারি বাড়ানো জরুরি: টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বহুমুখীকরণ এখন সময়ের দাবি

রপ্তানি খাতে নজরদারি বাড়ানো জরুরি: টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বহুমুখীকরণ এখন সময়ের দাবি

বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে পুনরুদ্ধারের পথে থাকলেও সাম্প্রতিক দুই মাসে রপ্তানি আয়ে পতন একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা উচিত। ২০২৫ সালের আগস্টে রপ্তানি ২.৯৩% এবং সেপ্টেম্বরে ৪.৬১% কমেছে আগের বছরের তুলনায়। যদিও সামগ্রিকভাবে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম তিন মাসে মোট রপ্তানি আয় ৫.৬৪% বেড়ে ১২.৩১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, তবুও এই ধীরগতির প্রবণতা উদ্বেগজনক।বাংলাদেশ শিগগিরই স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পথে। এই উত্তরণ অর্থনৈতিক মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশেষ সুবিধা হারানোর ঝুঁকিও বয়ে আনবে। দীর্ঘদিন ধরে রপ্তানিনির্ভর প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়েছে, কিন্তু এই একক নির্ভরতা এখন বড় দুর্বলতায় পরিণত হচ্ছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরএমজি পণ্যে আরোপিত শুল্কই সাম্প্রতিক রপ্তানি হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে চাহিদার ওঠানামা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রতিযোগিতামূলক নতুন দেশগুলোর আবির্ভাব বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এখনই সময় রপ্তানি খাতে পণ্যের পাশাপাশি বাজারেরও বহুমুখীকরণে মনোযোগ দেওয়ার।বাংলাদেশের রয়েছে একাধিক সম্ভাবনাময় খাত—যেমন ওষুধশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), চামড়াজাত পণ্য, সামুদ্রিক মাছ ও কৃষিপণ্য। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তি ও ডিজিটাল সেবাখাত ভবিষ্যতের রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। এজন্য দরকার সঠিক নীতি সহায়তা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ, এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার সংস্কৃতি।রপ্তানি আয়ের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ এবং এখন থেকেই বৈচিত্র্যময় খাতকে বিকশিত করা শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সার্বভৌমত্ব ও সমৃদ্ধির বিনিয়োগ হিসেবেও বিবেচনা করা উচিত।

সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন

Related Articles