আগামী মাস থেকেই চীনা পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) নিজের সামাজিকমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর নতুন করে বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার রফতানিতেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করবে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে দুই পরাশক্তির মধ্যে চলমান অর্থনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।ট্রাম্প অভিযোগ করেন, চীন বর্তমানে ‘বিরল জ্বালানি উপাদান’ বা rare earth materials রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজারকে ‘জিম্মি’ করার চেষ্টা করছে। তিনি একে ‘শত্রুতাপূর্ণ আচরণ’ বলে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকবে না। এই প্রেক্ষাপটে, ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক থেকে সরে আসারও হুমকি দিয়েছেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি বলেন, বৈঠকটি এখনও বাতিল হয়নি, তবে সেটি অনুষ্ঠিত হবে কি না—সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।এ ঘোষণার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রধান সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দেয়—স্টক সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে এবং প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে।অর্থনীতিবিদদের একাংশ বলছেন, নতুন শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে। চীনের ওপর নির্ভরশীল ইলেকট্রনিক্স, গাড়ির যন্ত্রাংশ, ও ভোক্তা সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে চীনের ‘অন্যায্য বাণিজ্যনীতি’র জবাব দেওয়া হচ্ছে এবং এটি মার্কিন শিল্পকে সুরক্ষা দেবে।বিশ্ববাজারে এখন নজর চীনের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার দিকে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
