ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনা—পুকুরে গোসল করা—নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাতের আঁধারে ছোট দেওয়ানপাড়া ও হাওলাপাড়া গ্রামের লোকজন টর্চ লাইটের আলোতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে হাওলাপাড়া গ্রামের যুবক তাইম ও তার কয়েকজন বন্ধু দেওয়ানপাড়ার শাকিলদের পুকুরে গোসল করতে গেলে শাকিল, শিপনসহ আরও কয়েকজন তাদের বাধা দেয় ও মারধর করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। রাত নামতেই উভয় গ্রামের লোকজন লাঠি, বল্লম, টেঁটা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।স্থানীয়রা জানান, টর্চ লাইট জ্বালিয়ে তারা একে অপরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটতে থাকে। কয়েক ঘণ্টা ধরে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের মতো পরিণত হয়। আহতদের মধ্যে অনেকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।সংঘর্ষের খবর পেয়ে সরাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কা না থাকে।সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পুকুরে গোসলের বিষয় নিয়ে দুই গ্রামের মধ্যে আগে থেকেই সামান্য বিরোধ ছিল। শুক্রবার দুপুরের মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাতে বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।এদিকে, সংঘর্ষে আহতদের পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে, গ্রামীণ সমাজে ছোটখাটো বিষয়ও কখনো কখনো বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে—যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষের জীবন ও সম্পদ, নষ্ট হয় পারস্পরিক সম্পর্কের সৌহার্দ্য।
সূত্র : যমুনা টিভি
