জাপানের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। দীর্ঘ পুরুষপ্রধান রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রাচীর ভেঙে দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন **সানাে তাকাহিচি**। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি জাপানের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।তাকাহিচি জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর একজন জ্যেষ্ঠ নেতা এবং বহুদিন ধরেই তিনি দল ও সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, প্রযুক্তি খাতে উদ্ভাবন, নারী নেতৃত্বের বিকাশ এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাপানে নারী নেতৃত্বের অভাব বহুদিনের সমস্যা। সমাজে নারী অংশগ্রহণের হার তুলনামূলক কম এবং রাজনীতিতে নারীর উপস্থিতি প্রায় প্রতীকী পর্যায়ে ছিল। তাকাহিচির ক্ষমতায় আসা তাই কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, এটি সামাজিক মানসিকতারও এক বড় রূপান্তর।তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ভাষণে বলেন, “জাপান এখন এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছে, যখন পরিবর্তন ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়। আমি চাই, এই পরিবর্তনের অগ্রভাগে থাকুক নারী ও তরুণ প্রজন্ম।”তাকাহিচির অগ্রাধিকার থাকবে—অর্থনৈতিক সংস্কার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তি খাতে জাপানের অবস্থান শক্ত করা, এবং এশিয়া অঞ্চলে শান্তি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা। এ ছাড়া তিনি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও সামাজিক কল্যাণ কর্মসূচি জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।তার নেতৃত্বে জাপান নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে দেশটির নাগরিক সমাজ। অনেকেই মনে করছেন, তাকাহিচির এই পদক্ষেপ এশিয়া তথা বিশ্ব রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
সূত্র : যমুনা টিভি
