ইসরায়েল যদি পশ্চিম তীরকে তাদের ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থন হারাতে পারে দেশটি—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার একটি বিল পাস হওয়াকে কেন্দ্র করে এই হুঁশিয়ারি আসে।বৃহস্পতিবার টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আরব দেশগুলোর সঙ্গে যে শান্তি ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার পরিপন্থী কোনো পদক্ষেপ ইসরায়েল নিতে পারে না। পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হলে তা ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতির জন্য “বড় বাধা” হয়ে দাঁড়াবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।ট্রাম্প বলেন, “যদি ইসরায়েল পশ্চিম তীর অধিগ্রহণের পথে এগোয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমর্থন তারা হারাবে। এমন একটি সিদ্ধান্ত শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই নয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।”উল্লেখযোগ্যভাবে, ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পশ্চিম তীর সংযুক্তির বিলটি ২৫–২৪ ভোটে অল্প ব্যবধানে অনুমোদন পেয়েছে। এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল কার্যত ফিলিস্তিনের অধিকৃত ভূখণ্ডকে নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা করতে চায় বলে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। ট্রাম্পের মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ওয়াশিংটন ইসরায়েলের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে।অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপকে “অবৈধ দখলদারির বৈধতা প্রদান” হিসেবে বর্ণনা করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ভারসাম্য ইতিমধ্যেই অস্থির অবস্থায় রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা ইসরায়েলের জন্য কূটনৈতিকভাবে বড় চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র : যমুনা টিভি
