ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও দেশের ব্যাংকিং খাতের পরিচিত ব্যক্তিত্ব ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদকে ১৮৯ কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। এর আগে সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাকে গ্রেপ্তার করে। দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারি পরিচালক মোহাম্মদ শাহ জালাল। আসামি পক্ষ থেকে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় আদালত শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তার আগে তিনি রূপালি ব্যাংকের এমডি, অগ্রণী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যাংকিং জগতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে বড় ধরনের জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জ শাখা থেকে নিয়ম ভেঙে ঋণ অনুমোদন ও উত্তোলনের মাধ্যমে ১৮৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদক মোট ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। অভিযোগ অনুযায়ী, মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের নামে ছোলা ও গম আমদানির জন্য ঋণ মঞ্জুর করা হলেও প্রকৃত সুবিধাভোগী ছিল নুরজাহান গ্রুপ ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাসমীর ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেড। বেতনভোগী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ অনুমোদন, বিপুল অঙ্কের টাকা উত্তোলন এবং ঋণের শর্তাবলি লঙ্ঘনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে টাকা আত্মসাৎ করা হয়। মামলায় অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ আব্দুল হামিদসহ ব্যাংকের উচ্চপদস্থ আরও কয়েকজন কর্মকর্তা, নুরজাহান গ্রুপ ও জাসমীর ভেজিটেবল ওয়েলের পরিচালক এবং অংশীজনদেরও আসামি করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, নুরজাহান গ্রুপের একটি বেনামী প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক হিসাব খোলা থেকে শুরু করে অর্থ উত্তোলন–সবকিছুই ছিল একটি পরিকল্পিত জালিয়াতি চক্রের অংশ।
সূত্র : আমার দেশ
