মুন্সিগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী মীরকাদিম পাইকারি মাছ বাজারে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ইলিশের দাম প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে দেশের সেরা রূপালি সম্পদটি আবারও সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। বাজারে গিয়ে দেখা যায়, সরু পথে ক্রেতা-বিক্রেতায় ভরপুর হলেও অনেক ক্রেতার মুখেই হতাশা—কারণ প্রত্যাশিত দামে ইলিশ মিলছে না।
এক কেজি ওজনের ইলিশ এখন বিক্রি হচ্ছে ২,৬০০–২,৭০০ টাকায়, আর দেড় কেজির মাছের দাম ৩,২০০ টাকা প্রতি কেজি। এমনকি সবচেয়ে ছোট ১৫০–২০০ গ্রামের ইলিশও ৬৫০–৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ—সিন্ডিকেট দাম বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকৃত সংকট আরও গভীর।
মীরকাদিম মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আল হেলাল রয়েল জানান, বালু উত্তোলনের অনিয়ম ও অনিয়ন্ত্রিত ‘কারেন্ট জাল’ ব্যবহারের কারণে প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে, ফলে জাটকা ও বড় ইলিশের সংখ্যা কমে গেছে। চাহিদা বেশি, সরবরাহ কম—এই ভারসাম্যহীনতাই দাম বাড়ার প্রধান কারণ বলে তিনি মনে করেন।
জেলা মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মুন্সিগঞ্জে ৩১,৩৪৮ টন মাছ উৎপাদন হলেও শীতকালে স্বাভাবিকভাবেই মাছের সরবরাহ কমে যায়, যা বাজারে চাপ সৃষ্টি করে।
ইলিশ ছাড়াও অন্যান্য বেশিরভাগ মাছের দাম বেড়েছে—রুই, কাতলা, বোয়াল, কই, গলদা, বাগদা ও আড়াসহ প্রায় সব প্রজাতিই উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। শতবর্ষী মীরকাদিম বাজার প্রতিদিনই কোটি টাকার মাছ লেনদেন করে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইলিশসহ বেশিরভাগ মাছ এখন অনেক পরিবারের জন্য বিলাস দ্রব্যে পরিণত হয়েছে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
