৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার তারিখ পেছানোর দাবিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেলে জাতীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ অভিমুখে আসার সময় পরীক্ষার্থীরা জানান, আগের বছরের বিসিএস পরীক্ষার্থীরা লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছরের মতো সময় পেতেন। কিন্তু এবার পিএসসি ঘোষিত সময় অনুযায়ী প্রিলিমিনারির পর মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, যা তাদের কাছে ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘অপ্রস্তুতিমূলক’ মনে হচ্ছে।
পরীক্ষার্থীরা দাবি করেন, এত কম সময়ে বিসিএসের মতো উচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে তারা শুধু পরীক্ষার তারিখ পুনর্নির্ধারণই নয়, বরং পিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগও দাবি করেন। পরীক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন—দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
দুপুরে শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে যমুনা ভবনের দিকে রওনা দেন তারা। পথে শাহবাগ মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়। তখনই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কয়েক দফায় ধাওয়া–পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ ব্যবহার করে। এতে বহু শিক্ষার্থী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরীক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছিলেন। বারবার অনুরোধের পরও তারা সরে না গেলে পুলিশ বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসে থাকা অবস্থায় পুলিশ বিনা উসকানিতে আক্রমণ করেছে।
এদিকে, পিএসসি জানিয়েছে যে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা আগেই ঘোষণা করা সূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে সারা দেশের আটটি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হবে। কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারের বিষয়ভিত্তিক পরীক্ষা চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরীক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে পিএসসির পক্ষ থেকে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় শাহবাগ এলাকায় যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি তৈরি হয়। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের যৌক্তিক দাবিতে সরকার ও পিএসসি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
সূত্র : যমুনা টিভি
