হংকংয়ের তাই-পো জেলার ওয়াং ফুক কোর্ট নামের বহুতল আবাসিক ভবনে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে। এটি হংকংয়ের গত ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। এখনো ভবনের বিভিন্ন অংশ থেকে কমপক্ষে ২০০ বাসিন্দার খোঁজ পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে আগুনের সূত্রপাত হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন তলায়। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১,২০০–এর বেশি সদস্য জরুরি উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তাদের টানা প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে ধোঁয়া ও তাপের কারণে উদ্ধার কাজ ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটির নিরাপত্তা প্রধান ক্রিস ট্যাং জানান, ভবনে আটকে থাকা জীবিতদের খোঁজার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রায় ২০০ জন নিখোঁজ থাকায় তদন্ত ও সূত্র যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডে আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ৭৯ জনে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১২ জন কর্মী আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনের ভিতরে রক্ষণাবেক্ষণ ত্রুটি ও অবহেলা থাকতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দায়িত্বে অবহেলার কারণে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হংকং সরকার জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৃহদাকার আবাসিক ভবনগুলোর নিরাপত্তা নীতিমালা পুনর্বিবেচনা এবং জরুরি অবকাঠামো উন্নয়নের কথা ভাবা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড হংকংয়ের মানুষকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন ও প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করতে কঠোর নিরাপত্তা মানদণ্ড ও নিয়মিত পরিদর্শন অপরিহার্য।
সূত্র : যমুনা টিভি
