বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে, তা নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর, বিশেষ করে ভারতের কোনো উপদেশের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আসা বিভিন্ন মন্তব্য এবং কূটনৈতিক তৎপরতার প্রেক্ষিতে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন।
উপদেশ গ্রহণ করার মতো পরিস্থিতি নেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে ভারত যে পরামর্শ বা উপদেশ দিচ্ছে, তা অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “ভারতের কিছু বক্তব্য এসেছে, যেখানে আমাদের উপদেশ দেওয়া হয়েছে। যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেটার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না।” সরকার প্রথম দিন থেকেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উচ্চমানের নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার করে আসছে, যা গত ১৫ বছরে দেশের মানুষ দেখেনি।
দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা তৌহিদ হোসেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ভারতের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, গত সরকারের সময়ে যখন দেশে প্রহসনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখন ভারত একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। সেই সময় দুই সরকারের সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর ছিল।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এখন যখন আমরা একটি ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছি, তখন কেন উপদেশ দেওয়া হচ্ছে? এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
কূটনৈতিক তলব ও পাল্টা তলব সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এর ঠিক তিন দিন পর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকেও ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এই কূটনৈতিক তৎপরতাকে ‘অপ্রত্যাশিত নয়’ বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তবে তিনি জানিয়েছেন, ভারত নির্বাচনের বিষয়ে যে বার্তা দিতে চেয়েছে, তা বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রাসঙ্গিক মনে হয়নি।
শেখ হাসিনার অবস্থান ও উসকানিমূলক বক্তব্য ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিলেও এখন তিনি ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমে উসকানিমূলক কথা বলছেন।
তৌহিদ হোসেনের মতে, “একজন আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত বা অভিযুক্ত ব্যক্তি পাশের দেশে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তার বক্তব্য বন্ধ করা বা তাকে ফেরত চাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।”
শেষ কথা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার জানে তাদের কী করতে হবে। জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবে এবং তাদের ভোটের মাধ্যমেই আগামী দিনের সরকার নির্বাচিত হবে—এই গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য।
Source: ITTEFAQ
