Falcon Feed

দুই প্রজন্মের দুই প্রতীক: খালেদা জিয়ার সূর্যাস্ত ও শহীদ হাদির ঝড়ো বিদায়

দুই প্রজন্মের দুই প্রতীক: খালেদা জিয়ার সূর্যাস্ত ও শহীদ হাদির ঝড়ো বিদায়

81কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেন দুই ভিন্ন প্রজন্মের দুই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় একসঙ্গে শেষ হয়ে গেল। একদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া—যিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনজুড়ে গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করেছেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে শরীফ ওসমান হাদি—জুলাই বিপ্লবের তরুণ মুখ, যিনি নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন, ক্ষোভ ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। একজনের বিদায় এসেছে দীর্ঘ অসুস্থতা ও বয়সের স্বাভাবিক নিয়মে, অন্যজনের মৃত্যু ঘটেছে হঠাৎ, নির্মম সহিংসতায়।

খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাধীনতার পরবর্তী রাজনীতির এক শক্তিশালী স্তম্ভ। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের হত্যার পর বিএনপির হাল ধরার মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেন, পুরুষতান্ত্রিক রাজনীতিতেও একজন নারী দৃঢ় নেতৃত্ব দিতে পারেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলন, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন একটি যুগের প্রতীক। তার শাসনামলে অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পোশাকশিল্পের বিকাশ ঘটলেও জীবনের শেষ অধ্যায় কেটেছে অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে। তার মৃত্যু অনেকের কাছে যেন এক যুগের শান্ত সমাপ্তি।

অন্যদিকে হাদি ছিলেন সেই যুগের বিপরীত প্রতিচ্ছবি—একটি অঙ্কুর, যার ভেতরে লুকিয়ে ছিল ভবিষ্যতের বন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্য তরুণদের উদ্বুদ্ধ করত। কিন্তু ডিসেম্বরের এক কালো দিনে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় গুলিতে নিহত হয়ে তিনি হয়ে যান শহীদ। তার মৃত্যু শান্ত শোক নয়, বরং ক্ষোভ ও প্রশ্নে ভরা এক প্রতিবাদে রূপ নেয়।

এই দুই বিদায় বাংলাদেশের রাজনীতিকে নতুন মোড়ে দাঁড় করিয়েছে। খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার যেমন বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তেমনি হাদির শাহাদত জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে টিকিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। সামনে আসন্ন নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং কোন পথে দেশ এগোবে—তার সিদ্ধান্তের মুহূর্ত। এই দুই ত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, গণতন্ত্র ও ন্যায়ের লড়াই এখনো শেষ হয়নি।

সূত্র : আমার দেশ

Related Articles