স্কুল ও হাসপাতালের আশপাশে সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব সংবেদনশীল স্থানের নির্ধারিত পরিসীমার মধ্যে সিগারেট বিক্রি করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং শিশু-কিশোরদের তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কুল ও হাসপাতাল এলাকাগুলোতে সিগারেট বিক্রি সহজলভ্য হলে কিশোরদের মধ্যে ধূমপানের প্রবণতা বাড়ে। একই সঙ্গে রোগী ও স্বজনদের জন্যও এটি ক্ষতিকর পরিবেশ তৈরি করে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এসব স্থানে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন জরিমানার বিধান কার্যকর হলে আইনের বাস্তব প্রয়োগ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কোচিং সেন্টারসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আশপাশে কোনো দোকানে প্রকাশ্যে সিগারেট প্রদর্শন ও বিক্রি করা যাবে না। ভ্রাম্যমাণ দোকান বা ফুটপাতের দোকানও এর আওতায় পড়বে। আইন অমান্য করলে প্রথমবারেই অর্থদণ্ড আরোপ করা হতে পারে, প্রয়োজনে দোকান সিলগালা বা লাইসেন্স সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত যৌথভাবে এ আইন বাস্তবায়নে কাজ করবে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দোকানিদের সচেতন করতে প্রচারণা চালানো হবে, যাতে তারা আইন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পান এবং স্বেচ্ছায় নিয়ম মেনে চলেন।
জনস্বাস্থ্য কর্মীরা বলছেন, শুধু জরিমানা নয়—সচেতনতা বৃদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় কমিউনিটির অংশগ্রহণে তামাকবিরোধী উদ্যোগ জোরদার করা গেলে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। নতুন এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ধূমপানের ঝুঁকি কমবে, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও নিরাপদ থাকবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
সূত্র : the business standard
