তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শেষে জাতি বিদায় জানাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে। মায়ের বিয়োগে শোকাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে এক আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তাঁর ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, মায়ের মৃত্যুতে দেশের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা তাঁদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে এবং নতুন করে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে—সাধারণ মানুষের কাছে ‘খালেদা জিয়া’ নামটি আসলে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ।
এক নতুন উপলব্ধি
গত শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তারেক রহমান সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, গত তিন দিনে দেশ ও বিদেশ থেকে যে পরিমাণ সমবেদনা, দোয়া এবং ভালোবাসা তাঁরা পেয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য।
তারেক রহমান লেখেন, “এই তিন দিনে আমরা আরও উপলব্ধি করেছি, আমার মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন; অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল এতটাই অর্থবহ, যা হয়তো আমরা নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি।”
তিনি আরও বলেন, অনেকের কাছে খালেদা জিয়া ছিলেন ‘আপসহীনতার প্রতীক’। নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকার যে অটল প্রেরণা তিনি রেখে গেছেন, তা রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।
জাতীয় ঐক্য ও শেষ বিদায়
৭৯ বছর বয়সে গত ৩০ ডিসেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জুলাই অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে তাঁকে দেখা হতো দেশে ঐক্য ও সংহতির অন্যতম প্রতীক হিসেবে। তাঁর মৃত্যুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
গত ৩১ ডিসেম্বর লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা শেষে শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। লাখো মানুষের এই ঢল প্রমাণ করে, দেশের রাজনীতির ইতিহাসে এবং মানুষের হৃদয়ে তাঁর অবস্থান কতটা সুদৃঢ়।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই অন্তিম বিদায়ের আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিশেষ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাঁদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এমন সম্মানজনক আয়োজন সম্ভব হয়েছে।
এছাড়াও, তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্র, বন্ধুরাষ্ট্র, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং বিশ্বনেতাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান, যারা এই শোকের সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
শেষ কথা
বেগম খালেদা জিয়ার এই চিরবিদায় কেবল একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং এটি একটি আদর্শ ও আপসহীন চেতনার স্মরণ। তারেক রহমানের এই বার্তা সেই সত্যকেই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করল—খালেদা জিয়া কেবল একটি নাম নয়, তিনি গণমানুষের কাছে এক অটুট সাহসের বাতিঘর।
Source: Prothomalo
