Falcon Feed

গ্রিনল্যান্ড দখল হলে ন্যাটো ভেঙে পড়তে পারে: যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর

গ্রিনল্যান্ড দখল হলে ন্যাটো ভেঙে পড়তে পারে: যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর

গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক রাজনীতিতে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা চালায় বা গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তাহলে ন্যাটো সামরিক জোট কার্যত ভেঙে পড়তে পারে। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যাবে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।

এই বক্তব্যের পর ইউরোপের বড় শক্তিগুলো ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়েছে। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের নেতাদের সঙ্গে এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরোপ ও ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিবৃতিতে জানানো হয়, ইউরোপীয় মিত্ররা ইতোমধ্যে আর্কটিকে নিজেদের উপস্থিতি ও বিনিয়োগ বাড়িয়েছে, যাতে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করা যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে এই উদ্যোগের “অপরিহার্য অংশীদার” হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সহজে গ্রিনল্যান্ড দখল করতে পারবে—এমন কোনো বাস্তব পরিস্থিতি নেই। গ্রিনল্যান্ডবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের মতো সহযোগিতামূলক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান তিনি। তবে একই সঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গ্রিনল্যান্ড দখলের “কল্পনা” পরিত্যাগ করার আহ্বানও জানান নিলসেন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আলোচনার ওপর জোর দেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন এবং দ্বীপটির আশপাশে চীন ও রাশিয়ার উপস্থিতি বাড়ছে। তাছাড়া গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ তেল, খনিজ সম্পদ ও ভবিষ্যৎ আর্কটিক নৌপথের সম্ভাবনা থাকায় এর কৌশলগত গুরুত্ব বাড়ছে। যদিও সেখানে ইতোমধ্যে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং ডেনমার্ক অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েনের ব্যাপারে আপত্তি করেনি, তবু সরাসরি দখলের চিন্তা ন্যাটোর ঐক্য ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র : DW

Related Articles