সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি সংবাদ। মধ্যরাতে প্রকাশিত ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে বাংলাদেশ দলকে ভারতেই খেলতে হবে, অন্যথায় পয়েন্ট কর্তনের মতো শাস্তির মুখে পড়তে পারে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং প্রশ্ন ওঠে—বাংলাদেশ কি আদৌ বিশ্বকাপে অংশ নেবে?
এই বিষয়ে সত্যতা যাচাই করতে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাধিক পরিচালক ও বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের প্রত্যেকের বক্তব্যে একটি বিষয়ই পরিষ্কার—আইসিসির পক্ষ থেকে এমন কোনো চূড়ান্ত নির্দেশনা বা হুমকি দেওয়া হয়নি।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেও এই খবরকে সরাসরি “মিথ্যা” বলে অভিহিত করেন। তিনি জানান, আইসিসি কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে বাংলাদেশকে অবশ্যই ভারতে গিয়ে খেলতে হবে। বরং আইসিসি বিসিবির কাছে জানতে চেয়েছে, কেন বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অনিচ্ছুক। বিসিবির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগই মূল কারণ।
বুলবুল আরও বলেন, আইসিসি সাম্প্রতিকভাবে বিসিবির কাছে তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগগুলোর একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে। কেন ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিরাপদ নন—এই প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা লিখিত আকারে দিতে বলা হয়েছে। সেই ব্যাখ্যা পাওয়ার পরই আইসিসি বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করে জানান, গণমাধ্যমে যে দাবি করা হচ্ছে—বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বাধ্য করা হচ্ছে অথবা বিশ্বকাপে ওয়াকওভার দিতে হবে—এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা বার্তা এখনো আসেনি। বরং বিষয়টি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিসিবির বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার মতো কোনো চূড়ান্ত কারণ নেই। আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে আলোচনা চলমান, এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিসিবি।
সূত্র : Jago News 24
