দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি দীর্ঘদিনের হলেও, নিয়মিত বিরতিতে ঘটে চলা প্রাণহানি থামছে না। সম্প্রতি এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তার শিশু সন্তান। জানা গেছে, দ্রুতগতির একটি ঘাতক ট্রাকের বেপরোয়া চালনার কারণে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মা ও মেয়ে রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন অথবা কোনো একটি যানে আরোহী ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবাহী বা পণ্যবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের সরাসরি চাপা দেয়। ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর পর চালক ট্রাক ফেলে পালিয়ে গেলেও স্থানীয় জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং সড়ক অবরোধ করে বিচার দাবি করে।
এই দুর্ঘটনার ফলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতালের বাতাস। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই নির্দিষ্ট রুটে ট্রাকগুলো প্রায়ই অনিয়ন্ত্রিত গতিতে চলাচল করে এবং ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা করে না। প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের দৌরাত্ম্যকে এই ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তারা।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও প্রক্রিয়াধীন। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—কবে নিরাপদ হবে আমাদের সড়ক? আর কত প্রাণ গেলে টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের? শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
পরিশোধিত সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং চালকদের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা প্রায় অসম্ভব। মা ও মেয়ের এই করুণ মৃত্যু আবারও আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, সড়কের প্রতিটি মোড় এখন একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সূত্র : RTV
