গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশ – বুধবারের সহিংস ঘটনার পর গোপালগঞ্জ শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক থাকলেও এক ধরনের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শহরজুড়ে ‘বিশেষ অভিযান’ পরিচালনা করছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বুধবার থেকে এখন পর্যন্ত যা ঘটলো
বুধবার রাত ৮টা থেকে জারি করা কারফিউ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বলবৎ রয়েছে। শহর জুড়ে র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। গোপালগঞ্জ সদর সার্কেলের একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক, তবে থমথমে। কারফিউ বলবৎ আছে।” তিনি আরও জানান, “গতকাল সন্ধ্যা থেকেই গোপালগঞ্জে বিশেষ অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর অধীনে এটি পরিচালনা করছে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।” এই অভিযানে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানালেও নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নতুন করে কোনো সংঘর্ষ বা মিছিলের খবর পাওয়া যায়নি।
সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়েছে বলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নিশ্চিত করেছেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই হামলার জন্য ‘মুজিববাদি সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছে। বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “মুজিববাদি সন্ত্রাসিরা জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং তার নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে জঙ্গি কায়দায় হামলা করেছে।” তিনি এই ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানান। এই হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে এনসিপি।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, গোপালগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানিয়েছেন যে, গোপালগঞ্জে পুলিশ কোনো ‘লিথ্যাল’ বা প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে না। পুরো পরিস্থিতি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
