সারা দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং দুর্ঘটনার হার বেড়ে যাওয়ায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ “বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, ২০২৫” শীর্ষক একটি কঠোর খসড়া নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো অটোরিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, যানজট কমানো, দুর্ঘটনা রোধ এবং যাত্রীসেবা নিরাপদ করা।খসড়া অনুযায়ী, মধ্যম (৫০ কিমি/ঘণ্টা) ও ধীরগতির (৩০ কিমি/ঘণ্টা) বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চালাতে হলে বিআরটিএর নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ফিটনেস সনদ ও নির্ধারিত রুট মেনে চলতে হবে। কেউ ৩টির বেশি মধ্যম গতির এবং ৫টির বেশি ধীরগতির অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না। বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ায় এই যান চলবে।মহাসড়কে এসব যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে; তবে সার্ভিস লেনে চলতে পারবে। সিটি কর্পোরেশন, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটি নির্ধারণ করবে যানবাহনের সংখ্যা ও চলাচলের রুট।২০২৩ সালের রেজিস্ট্রেশন নীতিমালার আলোকে, অনিরাপদ থ্রি-হুইলারকে এক বছরের মধ্যে নিরাপদ মডেলে রূপান্তর করতে হবে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া ফিটনেসবিহীন, অপ্রশিক্ষিত চালক ও অনুমোদনহীন যন্ত্রাংশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।নীতিমালায় বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকদের বিআরটিএ ও বিডা থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এসব যান ও যন্ত্রাংশ বাজারজাত করতে হবে নির্ধারিত ব্র্যান্ডে এবং বিএসটিআই অনুমোদিত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে হবে।বিআরটিএ জেলাভিত্তিক চালক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেবে। প্রতিটি যানে মালিক ও চালকের মোবাইল নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে। বিদ্যুৎ চার্জিং স্টেশন স্থাপন হবে নির্ধারিত নিয়মে।এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়কে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
