সাম্প্রতিক সময়ে জনসাধারণের জন্য এক দারুণ সুখবর নিয়ে এসেছে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (EDCL)। তারা ৩৩টি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ওষুধের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ।
কীভাবে সম্ভব হলো এই দাম কমানো?
EDCL-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামাদ মৃধা জানিয়েছেন, এই দাম কমানোর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ:
- অদক্ষ জনবল ছাঁটাই: বিগত সরকারের আমলে অতিরিক্ত প্রায় ২ হাজার কর্মী ছিল, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন অদক্ষ। তাদের মধ্যে থেকে ৭২২ জনকে ছাঁটাই করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানের খরচ কমেছে।
- অতিরিক্ত ওভারটাইম বন্ধ: অপ্রয়োজনীয় ওভারটাইম বন্ধ করে খরচ কমানো হয়েছে।
- সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া: কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এতে যৌক্তিক মূল্যে কাঁচামাল কেনা সম্ভব হয়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় কমিয়েছে।
- ট্রল ম্যানুফ্যাকচার হ্রাস: অপ্রয়োজনীয় উৎপাদন কমিয়ে ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলোর কারণে EDCL-এর উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যার সুফল এখন জনগণ পাচ্ছেন।
কোন কোন ওষুধের দাম কমেছে?
যে ৩৩টি ওষুধের দাম কমানো হয়েছে, তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জরুরি ওষুধ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য ক্যাটাগরি হলো:
- অ্যান্টিবায়োটিক
- নিউমোনিয়া ও সর্দি-জ্বরের ওষুধ
- উচ্চরক্তচাপ, গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং কৃমিনাশক ওষুধ
- ব্যথানাশক ও হাঁপানির ওষুধ
- বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন
এছাড়াও, গ্রামীণ ক্লিনিকগুলোতে ব্যবহৃত ৩২টি ওষুধের মধ্যে ২২টির দামও কমানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গ্যাস্ট্রিকের অ্যান্টাসিড, প্যারাসিটামল, সালবিউটামল, অ্যালবেনডাজল এবং মেটফর্মিনের মতো বহুল ব্যবহৃত ওষুধগুলোর দাম কমেছে।
কিছু ওষুধের দাম কমানো হয়েছে ১০% থেকে ৫০% পর্যন্ত। যেমন, মনটিলুকাস্ট ট্যাবলেটের দাম ১০.৬৭ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৫ টাকা করা হয়েছে।
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা
EDCL জানিয়েছে যে, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও অনেক ওষুধের দাম কমানো সম্ভব হবে। এটি চিকিৎসা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে এবং সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা আরও সহজলভ্য হবে।
এই পদক্ষেপটি নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যখাতে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এতে একদিকে যেমন মানুষের অর্থ সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে তেমনি মানসম্মত ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত হবে।
Source: JamunaTV
