রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ছাত্রলীগের কর্মী সন্দেহে এক ছাত্রকে পিটিয়েছে ছাত্রদল কর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকেলে ওই ছাত্র ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এসময় স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা এবং গোপনে ছাত্রলীগের জন্য কাজ করছিলেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শুধু শিবির সন্দেহে মারধরই নয়, হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেছে। তবে ছাত্রদল নেতারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ওই ব্যক্তি এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন বলে তারা তাকে আটকে রেখেছিলেন।ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে থানা কার্যালয়ে ডেকে পাঠায়। পুলিশ জানায়, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছেন। ধানমন্ডি থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে না যায়।রাজনৈতিক অঙ্গনে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, সন্দেহজনক আটক ও হামলার ঘটনা নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাটি রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘটায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সহিংস কর্মকাণ্ড ছাত্র রাজনীতির সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে এবং ক্যাম্পাস ও আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
