Falcon Feed

এখানে আমার নাম কেন? এটা কি আমার বাপের টাকায় করছে?: ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনী ফলকে নিজের নাম দেখে চটলেন উপদেষ্টা

এখানে আমার নাম কেন? এটা কি আমার বাপের টাকায় করছে?: ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনী ফলকে নিজের নাম দেখে চটলেন উপদেষ্টা

উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনী ফলকে নিজের নাম দেখে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। সরকারি প্রকল্পের কৃতিত্ব ব্যক্তিগতকরণ না করার এক বলিষ্ঠ বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “এটা কি আমার বাপের টাকায় করছে, তাহলে কেন আমার নাম থাকবে?” তার এই অকপট প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি অনুকরণীয় আদর্শ স্থাপন করেছে।

ঘটনার বিবরণ

রোববার, ২৪ আগস্ট সকালে গাজীপুরের ভোগড়া এলাকায় ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম ধাপের ১৮ কিলোমিটার অংশ উদ্বোধনের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল এক অনুষ্ঠানের। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। প্রথা অনুযায়ী উদ্বোধনী ফলকের লাল পর্দা সরাতেই তিনি দেখতে পান, সেখানে তার নাম খোদাই করা আছে।

নামফলকে নিজের নাম দেখামাত্রই তিনি রেগে যান এবং উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করেন, “এখানে আমার নাম কেন?” ক্ষুব্ধ উপদেষ্টা এরপর উদ্বোধনী ফলক উন্মোচন না করেই নিজের গাড়ির দিকে ফিরে যেতে উদ্যত হন।

এসময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দেন, “এটা ইমিডিয়েট ঠিক করেন। এখানে নাম থাকা যাবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “ফলকে শুধু লেখা থাকবে ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন, মন্ত্রণালয়ের নাম। আমার টাকায় তো হয়নি, তাহলে আমার নাম কেন থাকবে?” তার এই দৃঢ় অবস্থানের কারণে কর্মকর্তারা দ্রুত নামফলক সংশোধনের ব্যবস্থা করেন। পরে তিনি মোনাজাতে অংশ নিলেও, তার কথায় ছিল সরকারি কাজের মূল দর্শন তুলে ধরার প্রয়াস।

ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে: এক নজরে

রাজধানীর যানজট কমাতে এবং দেশের উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ দ্রুততর করতে ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের মে মাসে। ভোগড়া বাইপাস থেকে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে পুরো এক্সপ্রেসওয়ে হস্তান্তরের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।

উদ্বোধন হওয়া ১৮ কিলোমিটার অংশে যান চলাচলের গতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, এই অংশে কোনো ইউ-টার্ন রাখা হয়নি এবং যানবাহনের ধরন অনুযায়ী টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।

সড়ক নির্মাণে ব্যয় হ্রাস ও স্বচ্ছতার আহ্বান

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ফাওজুল কবির খান শুধু নামফলকের বিষয়েই নয়, দেশের সড়ক নির্মাণ খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও উচ্চ ব্যয় নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “বড় শহরগুলোতে এ রকম বাইপাস করতে হবে যাতে আমরা বড় শহরগুলোকে যানজট মুক্ত করতে পারি। তবে সড়ক নির্মাণের ব্যয় কমাতে হবে এবং টেকনোলজি বাড়াতে হবে, যেন বছর বছর সড়ক খারাপ না হয়।”

দেশের সড়কগুলোর বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি সব রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, চলাচল করা যাচ্ছে না। সিলেট থেকে আমি প্রায় প্রতিদিন ফোন পাই রাস্তা খারাপের বিষয়ে।” তিনি প্রকৌশলীদের সদিচ্ছার ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের প্রকৌশলীরা যদি চায়, ৩০-৪০ শতাংশ ব্যয় কমাতে পারেন।”

মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের এই পদক্ষেপ কেবল একটি নামফলক পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা। জনগণের টাকায় নির্মিত প্রকল্পে ব্যক্তিগত নাম জাহির করার সংস্কৃতির বিপরীতে তার এই অবস্থান সততা, স্বচ্ছতা এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক। তিনি দেখিয়ে দিলেন যে, প্রকৃত উন্নয়ন জন্য, কোনো ব্যক্তির নাম প্রচারের জন্য নয়। তার এই আদর্শ দেশের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের অনুপ্রাণিত করবে এবং সরকারি প্রকল্পে অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা রোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।

Source: Somoynews.tv

Related Articles