২০২৯ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সংস্থাটি জানিয়েছে, আসরটি অনুষ্ঠিত হবে ২০২৯ সালের গ্রীষ্মে (জুন-জুলাইয়ে)। এই সিদ্ধান্তের ফলে কাতারের আয়োজক হওয়ার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেল। কারণ, কাতারে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমের কারণে টুর্নামেন্ট শীতকালে সরাতে হতো, যা ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর সূচির সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করত। তাই শীতকালীন আয়োজনের পরিবর্তে গ্রীষ্মকালীন সময়কেই বেছে নিয়েছে ফিফা।ফিফা ইতিমধ্যেই মহাদেশীয় কনফেডারেশনগুলোকে নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে জানিয়েছে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া ৩২ দলের ক্লাব বিশ্বকাপের পর ২০২৯ সালের আসরে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়ানো নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। অনেক বড় ক্লাব সরাসরি ৪৮ দলের ফরম্যাট দাবি করলেও ফিফা ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের পথে হাঁটতে চাইছে।আয়োজক হওয়ার দৌড়ে এখন এগিয়ে আছে স্পেন ও মরক্কো, যারা ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপও যৌথভাবে আয়োজন করবে। পর্তুগাল বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক হলেও ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে তাদের আগ্রহ তেমন নেই।খেলোয়াড়দের শারীরিক সুরক্ষা বিবেচনায় রেখে ফিফা নতুন কাঠামোও ভাবছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূল আসর শুরু হওয়ার এক সপ্তাহ আগে বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এতে জয়ী দলগুলো মূল টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবে। এ ধরনের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে যেন শেষ মুহূর্তে প্লে-অফ আয়োজন করতে না হয়। এর আগে সর্বশেষ আসরে কনক্যাকাফ অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণে হঠাৎ করেই লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি ও ক্লাব আমেরিকার মধ্যে প্লে-অফ আয়োজন করতে হয়েছিল।বিশ্লেষকদের মতে, ফিফার এই সিদ্ধান্ত খেলোয়াড়দের জন্যও ইতিবাচক হবে, কারণ গ্রীষ্মকালীন সূচি অন্যান্য লিগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাত তৈরি করবে না। একই সঙ্গে আয়োজক নির্বাচনে কাতার ছিটকে যাওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সূত্র : সময় টিভি
