ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ – জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরকে আরও ৩৬ ঘণ্টা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও তাকে এখনও আশঙ্কামুক্ত বলতে নারাজ মেডিকেল বোর্ড।
শনিবার রাত ৮টায় ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, আগামী ৩৬ ঘণ্টা নুরুল হক নুরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে তার মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই পর্যবেক্ষণের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই তার পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
গুরুতর আঘাত ও মেডিকেল বোর্ড গঠন
ঢামেকের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের মতে, নুরের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়াও তার নাক এবং চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে তার মস্তিষ্কে হালকা রক্তক্ষরণের চিত্রও ধরা পড়েছে। আঘাতের পরপরই তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
তার চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডে নিউরোসার্জারি, নাক-কান-গলা (ইএনটি), চক্ষু এবং মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। চিকিৎসকদের সমন্বিত দলটি সার্বক্ষণিকভাবে নুরের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনা করছে।
বর্তমান শারীরিক অবস্থা
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নুরুল হক নুর বর্তমানে সম্পূর্ণ জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন এবং স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারছেন। তবে, তার চোখ ও মুখে মারাত্মক ফোলাভাব রয়েছে এবং চোখের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে আছে, যা তার গুরুতর আঘাতের চিহ্ন বহন করছে।
সংঘর্ষের পর আহত নুরকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় একটি স্ট্রেচারে করে জরুরি বিভাগে নিতে দেখা যায়।
দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা
এদিকে, নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজ থেকে এক পোস্টে নুরুল হক নুর দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে গণ-অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় নুরুল হক নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং এর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি উঠেছে।
Source: Ittefaq
