বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে ঘটনাপ্রবাহ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় রাজসাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছেন মামুন নিজেই।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রসিকিউশন জানায়, এ পর্যন্ত মামলায় ৩৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের জবানবন্দিতে উঠে এসেছে গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে দেশজুড়ে চালানো হত্যাযজ্ঞ, যা প্রত্যক্ষদর্শী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা শেখ হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের দায়ী করেছেন।
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন ইতোমধ্যেই আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন। ১০ জুলাই তিনি আদালতে বলেন, আন্দোলন চলাকালে হত্যা-গণহত্যার অভিযোগ সত্য এবং এর সঙ্গে তারও সম্পৃক্ততা রয়েছে। নিজের অপরাধ স্বীকার করে তিনি জানান, সত্য উদঘাটনে ও রহস্য উন্মোচনে আদালতকে সহায়তা করতে চান।
এ মামলায় প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনেছে। প্রায় আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে রয়েছে তথ্যসূত্র, জব্দকৃত প্রমাণ, শহীদদের নামের তালিকা ও বিভিন্ন দালিলিক দলিল। সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মোট ৮১ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু করার নির্দেশ দেয়।
আদালতের মতে, প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযোগগুলো যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে রাজসাক্ষী মামুনের সাক্ষ্য মামলার গতিপথে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। কারণ তিনি ছিলেন অভিযুক্তদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে থাকা একজন।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
