বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা জাকির খান। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শহরের মণ্ডলপাড়া থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই সমাবেশটি। নেতা-কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি কেবল একটি রাজনৈতিক শোডাউন ছিল না, বরং নারায়ণগঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের লক্ষ্যের একটি জোরালো ঘোষণাও ছিল।
সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জাকির খানের দৃঢ় অবস্থান
সমাবেশ শেষে বক্তব্যে জাকির খান নারায়ণগঞ্জের প্রধান দুটি সমস্যা—সন্ত্রাস ও মাদক—নির্মূল করার বিষয়ে তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জে সন্ত্রাসমুক্ত ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।” এই একটি বাক্যেই যেন তিনি শহরবাসীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি করেন। তার বক্তব্যে ফুটে ওঠে একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনের স্বপ্ন, যেখানে তরুণ প্রজন্ম বিপথগামী না হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
এর পাশাপাশি তিনি দলের চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আরোগ্য এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা করেন। জাকির খান আশা প্রকাশ করে বলেন, “তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরে আসবেন।” তার এই বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা ও আশার সঞ্চার হয়।
অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি
আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে চলমান ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে জাকির খান বলেন, “এবারের নির্বাচন হবেই হবে, তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র চলছে। সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।” এর মাধ্যমে তিনি একটি গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার তার বক্তব্যে জাকির খানের প্রতি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জাকির খানকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার শিকার হতে হয়েছে। কারাগারে থাকাকালীনও তার জনপ্রিয়তা কমেনি, যা মুক্তির পর সংবর্ধনায় হাজারো মানুষের ঢল নামা দেখেই বোঝা যায়। ইসহাক সরকার বিশ্বাস করেন, “তার হাত ধরে সন্ত্রাস কবলিত নারায়ণগঞ্জ মুক্ত হবে।” ২৫ বছর পরেও জাকির খানের জনপ্রিয়তা অটুট থাকাটা তার নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থারই প্রতিফলন।
এই গণসংযোগে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, জেলা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক সলিমউল্লাহ করিম সেলিমসহ অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, যা এই উদ্যোগের প্রতি দলের সর্বস্তরের সমর্থনের প্রমাণ দেয়।
সব মিলিয়ে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই র্যালিটি কেবল একটি উদযাপন ছিল না, বরং নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে দলের নতুন অঙ্গীকার ছিল। জাকির খানের নেতৃত্বে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার এই প্রত্যয় নারায়ণগঞ্জবাসীর মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করেছে।
Source: pressnarayanganj24
