Falcon Feed

সুশীলা নন, নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে ‘বিদ্যুৎ হিরো’ কুলমান ঘিসিং

সুশীলা নন, নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে ‘বিদ্যুৎ হিরো’ কুলমান ঘিসিং

নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মোড়। দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, এই নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, তখন সবাইকে অবাক করে দিয়ে দৌড়ে এগিয়ে এসেছেন নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (এনইএ)-এর সাবেক প্রধান কুলমান ঘিসিং। কিছুদিন আগেও যেখানে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কির নাম প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছিল, সেখানে তরুণ প্রজন্মের ‘জেন জি’ আন্দোলনকারীদের সমর্থনে এখন পাল্লা ভারী কুলমানের দিকে।

কেন কুলমান ঘিসিং?

৫৪ বছর বয়সী ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কুলমান ঘিসিং নেপালের সাধারণ মানুষের কাছে একজন সত্যিকারের ‘হিরো’। একসময় যে দেশে দৈনিক ১৮ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকত না, সেখানে তিনি তার নেতৃত্বে অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছেন। এনইএ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে তার कार्यकाल ছিল নেপালের জন্য এক সোনালী অধ্যায়। তিনি শুধু বিদ্যুৎ সংকটই দূর করেননি, বরং দেশবাসীর মনে আশার আলো জ্বালিয়েছেন।

তরুণ আন্দোলনকারীদের মতে, সুশীলা কার্কির মতো প্রবীণ নেতৃত্বের চেয়ে কুলমান ঘিসিং অনেক বেশি কার্যকর ও গতিশীল ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “যেহেতু বলেন্দ্র শাহ আগ্রহ দেখাননি, ধর্মান মেয়র হার্ক সাম্পাং সবার সমর্থন টানতে পারছেন না, আর সুশীলা কার্কি অযোগ্য ও সত্তরোর্ধ্ব—তাই দেশপ্রেমিক এবং সর্বজনপ্রিয় প্রকৌশলী কুলমান ঘিসিংকেই অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”


সাংবিধানিক প্রেক্ষাপট

নেপালের সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল সরকার গঠন করে। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেই প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রেসিডেন্টের হাতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মনোনীত করার ক্ষমতা রয়েছে। সুশীলা কার্কির ক্ষেত্রে সাবেক প্রধান বিচারপতি হওয়ায় কিছু আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে, যা কুলমান ঘিসিংয়ের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

কে এই কুলমান ঘিসিং?

কুলমান ঘিসিংয়ের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৯৪ সালে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষে (এনইএ)-তে। ধীরে ধীরে নিজের দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে ২০১৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে নিযুক্ত হন। তার সময়েই নেপাল লোডশেডিংয়ের অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় এবং তিনি দেশজুড়ে “বিদ্যুতের নায়ক” হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

তবে তার পথচলা মসৃণ ছিল না। তৎকালীন কেপি শর্মা ওলি সরকারের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল।

এখন দেখার বিষয়, নেপালের অস্থির রাজনীতিতে কুলমান ঘিসিংয়ের মতো একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে আসতে পারেন কিনা। যদি তিনি আসেন, তবে তা নেপালের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, যেখানে একজন আমলাতান্ত্রিক ‘হিরো’ দেশের রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলার দায়িত্ব নেবেন।

Source: Dhakamail