টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সংঘটিত হয়েছে এক হৃদয়বিদারক ও বিভীষিকাময় ঘটনা। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে কবিরাজ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছিল এক ব্যক্তি। কিন্তু তার আসল মুখোশ প্রকাশ পেয়েছে সম্প্রতি, যখন সে চিকিৎসার অজুহাতে এক নারী ও তার কিশোরী মেয়েকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, প্রথমে ওই ভুয়া কবিরাজ মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিন্তু বাধার সম্মুখীন হলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করে।ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি কবিরাজ পরিচয়ে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে নানা ভেষজ চিকিৎসার নামে মানুষকে প্রতারণা করত। অনেকেই তার ভণ্ডামির কথা জানলেও এমন নৃশংস অপরাধ কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।মা-মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারের পর পুরো গ্রাম শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযানে নামে এবং ভুয়া কবিরাজকে আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কোনোভাবেই প্রশ্রয় পাবে না এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।মানবাধিকার সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনগুলো এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, প্রতারক কবিরাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতেও নিরীহ মানুষ প্রতারণা ও সহিংসতার শিকার হবে। এ ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে সমাজে ছদ্মবেশী অপরাধীদের ভয়ঙ্কর চিত্র।এখনো পর্যন্ত মামলার তদন্ত চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীকে ধরতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী ঘটনার দ্রুত বিচার চান। তাদের একটাই দাবি—এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যাতে আর কেউ কখনো ভুয়া কবিরাজের নামে প্রতারণা বা সহিংসতা করার সাহস না পায়।
সূত্র : ডি ইন্টারনেট টুডে বিডী
