ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছে লুক্সেমবার্গ। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের একটি কমিশন বৈঠকে এই ঘোষণা দিয়েছেন। চলতি মাসের শেষ দিকেই বিষয়টি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তে রূপ নেবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে লুক্সেমবার্গও এই ঘোষণা দেবে।এর আগে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ—ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও যুক্তরাজ্য—ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নেয়। গত জুলাইয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন ঘোষণা করেছিলেন, ফ্রান্স ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। একই মাসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও জাতিসংঘ অধিবেশনে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি শর্ত দেন যে, যদি ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মত না হয় এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত না করে, তবে ব্রিটেন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে। এর ধারাবাহিকতায় একে একে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করে।অন্যদিকে, গত ১৬ আগস্ট রাতে ইসরায়েল গাজা শহরে পূর্ণমাত্রায় স্থল অভিযান শুরু করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানে ইসরায়েলকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল এবং দ্রুত শেষ করতে চাপও দিয়েছিল। তবে এর ফলে গাজার মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রায় ১৪৭টি দেশ ইতোমধ্যেই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটি মোট দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ। তবুও আন্তর্জাতিক সমর্থনের পরও গাজায় চলমান সংঘাত ও গণহত্যা থামছে না। লুক্সেমবার্গের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই শান্তি ও ন্যায্যতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।সূত্র : যমুনা টিভি
You can share this post!
