যুক্তরাষ্ট্রে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে যাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “আজ থেকে যেখানেই আওয়ামী লীগ সেখানেই মাইর”।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে হামিম এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি তার স্ট্যাটাসে লেখেন, “যেখানে আওয়ামী লীগ সেখানেই মাইর আজ থেকে….no mercy”। তার এই পোস্টটি দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত
এর আগে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে ড. ইউনূসের সফরসঙ্গী ও এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা। অভিযোগ উঠেছে, বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা তাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে এবং হেনস্তা করে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ডা. তাসনিম জারা তার ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, “এটি ব্যক্তি আখতার হোসেনের ওপর আক্রমণ নয়, তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে করা হয়েছে। কারণ তিনি প্রতিনিধিত্ব করেন সেই দলকে, যে দল ফ্যাসিবাদের কাঠামো ভেঙে দিতে প্রতিনিয়ত কাজ করছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এই হামলা স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিল যে, পরাজিত শক্তির ভয় ও হতাশা কতটা গভীর। আমি নিশ্চিত এই আক্রমণ আখতার হোসেনকে এক বিন্দুও দুর্বল করবে না, তার দৃঢ়তা আরও বাড়িয়ে দেবে।”
এনসিপি’র জরুরি বিবৃতি
ঘটনার পরপরই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে একটি জরুরি বিবৃতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, আখতার হোসেন ও তাসনিম জারার ওপর হামলার সময় সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়েন।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন এনসিপি নেতারা। জুলাই বিপ্লবের (ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান) সময় যারা জীবনবাজি রেখে লড়েছিলেন, তাদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হামলাকারীদের ক্ষোভ এখনও কমেনি বলে উল্লেখ করা হয়।
এনসিপি তাদের বিবৃতিতে আখতার হোসেনের ওপর পূর্ববর্তী সরকারের নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলে, “আখতার হোসেনকে খুনি হাসিনা সরকার জুলাইতে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন চালায়। যিনি গণআন্দোলনের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন, আজও সেই সংগ্রামের মূল্য দিতে হচ্ছে।” দলটি এই ধরনের ঘটনাকে অন্তর্বর্তী সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসেবেও আখ্যায়িত করেছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছাত্রদল নেতার সরাসরি হুঁশিয়ারি এই উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
Source: BD24Report
