কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। বাবার মৃত্যুর মানসিক আঘাত সহ্য করতে না পেরে ছেলে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের উদয় নাতুরিয়া গ্রামে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে বাবা সম্ভু চরণ ও ছেলে বিজয় কুমারের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হয়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে সম্ভু চরণ মারা যান। বাবার মৃত্যুকে হঠাৎ মেনে নিতে পারেননি ছেলে বিজয়। তিনি বাবার মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী মনে করে গভীর মানসিক চাপে ভেঙে পড়েন।পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ধারণা করছেন, বাবার সঙ্গে শেষ মুহূর্তের মনোমালিন্য এবং বাবার মৃত্যু তাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। রাতের কোনো এক পর্যায়ে বিজয় বাড়ির পাশের নির্জন বাগানে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহনন করেন।শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা বাগানে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে বিষয়টি থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোন্দকার জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বাবার মৃত্যুর পর ছেলের মরদেহ বাড়ির পাশের বাগান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বাবা-ছেলের একই রাতে মৃত্যু পুরো গ্রামকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখা যায়, প্রিয়জনের মৃত্যু অনেক সময় মানুষকে চরম হতাশায় ঠেলে দেয়। বিশেষ করে, অপরাধবোধ ও মানসিক চাপ আত্মহননের ঝুঁকি বাড়ায়।এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল যে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা কতটা জরুরি। পরিবার ও সমাজের উচিত কঠিন সময়ে সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো, যেন হতাশা বা অপরাধবোধ কাউকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে না দেয়।
সূত্র : যমুনা টিভি
