বাংলাদেশে বেকারত্ব এখন শুধু অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য এক গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা এক বছরে বেড়ে ২৪.৬ লাখ থেকে ২৬.২ লাখে পৌঁছেছে। সংখ্যাটি তুলনামূলকভাবে কম মনে হলেও বাস্তবতার সঙ্গে মেলাতে গেলে ভয়াবহ চিত্র ফুটে ওঠে।সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো যুব বেকারত্ব। ১৫-২৯ বছর বয়সী বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯% বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক। এ ছাড়া মোট বেকারের মধ্যে ১৩.৫৪% স্নাতক এবং ৭.১৩% উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ। এটি স্পষ্ট করে যে শিক্ষা ব্যবস্থা শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো মুখস্থনির্ভর শিক্ষা প্রাধান্য পাচ্ছে, যেখানে শিল্প ও সেবা খাত চায় প্রযুক্তি, দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাসম্পন্ন জনশক্তি।একই সঙ্গে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। উচ্চ সুদের কারণে উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে অনাগ্রহী, ফলে শিল্প খাত সম্প্রসারণ ব্যাহত হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৯.৮% থাকলেও বাস্তবে তা দাঁড়ায় মাত্র ৬.৪%। নতুন অর্থবছরে এ লক্ষ্য আরও কমিয়ে আনা হয়েছে।আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান বেকারত্বের প্রকৃত গভীরতা আড়াল করছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করলেও তা কর্মসংস্থান হিসেবে ধরা হয়। ফলে অনেক তরুণ অনিয়মিত বা অপ্রতুল কাজে যুক্ত থেকেও কার্যত বেকার রয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থাকে বলা হয় “ছদ্ম-বেকারত্ব,” যা উৎপাদনশীলতা কমায় এবং মানবসম্পদ অপচয় করে।ফলে একদিকে উচ্চশিক্ষিত তরুণরা চাকরির অভাবে হতাশ, অন্যদিকে সমাজে হতাশা, আসক্তি, ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি বাড়ছে। সরকারিভাবে সীমিত চাকরি ও বেসরকারি খাতে স্বল্প মজুরি সমস্যাকে আরও জটিল করছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাজারমুখী করা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় জোর দেওয়া, বিনিয়োগ ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং বেসরকারি চাকরিকে সম্মানজনক করা ছাড়া এ সংকট নিরসন সম্ভব নয়।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
