জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার ৮০ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ, ২৪ অক্টোবর। শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ১৯৪৫ সালে জন্ম নেওয়া এই সংস্থার কার্যকারিতা এখন প্রশ্নের মুখে, বিশেষ করে ইসরাইল-গাজা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘ তার মূল লক্ষ্য—“আন্তর্জাতিক শান্তি বজায় রাখা”—বাস্তবে কতটা রক্ষা করতে পেরেছে, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে।ফিলিস্তিন এখনো জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য নয়; তবে ২০১২ সাল থেকে অ-সদস্য পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৪ সালে সাধারণ পরিষদ গাজায় তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে একাধিক প্রস্তাব গ্রহণ করলেও সেগুলো বাধ্যতামূলক ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতার কারণে নিরাপত্তা পরিষদ প্রায় অচল হয়ে পড়ে, ফলে গাজা সংকটে জাতিসংঘের ভূমিকা সীমিত থাকে কূটনৈতিক বিবৃতিতেই।একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও, ইসরাইল আইসিসির সদস্য নয় বলে তা কার্যকর হয়নি। এতে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট হয়।মানবিক দিক থেকে জাতিসংঘের ভূমিকা কিছুটা সক্রিয় থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। গাজায় জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয়ের সতর্কতা দিয়েছে; অগাস্টে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে গাজায় “দুর্ভিক্ষ” চলছে বলে স্বীকার করেছে তারা। খাদ্য ও ওষুধ সহায়তা দিতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৬২ ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৭৬ জন জাতিসংঘের কর্মী।বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতিসংঘ এখন দুটি মুখে বিভক্ত—একদিকে নিরাপত্তা পরিষদের ‘ভেটো-নির্ভর’ রাজনৈতিক জাতিসংঘ, অন্যদিকে মানবিক সহায়তানির্ভর জাতিসংঘ। সাবেক কূটনীতিক এম হুমায়ূন কবির বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদের অকার্যকারিতা জাতিসংঘের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।” অপরদিকে, অধ্যাপক সৈয়দা রোজানা রশীদ জাতিসংঘের ভূমিকা ‘ভণ্ডামিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন, কারণ তারা আক্রমণ বন্ধে ব্যর্থ হয়ে শুধু ত্রাণের আশ্রয়ে সীমাবদ্ধ থেকেছে।
সূত্র : আমার দেশ
