ফিলিস্তিনিদের মানবিক সহায়তা ও গাজায় জরুরি রোগীদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য নেওয়া উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ানকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। বুধবার আঙ্কারায় ডব্লিউএইচও ইউরোপের আঞ্চলিক পরিচালক হান্স ক্লুগে এরদোয়ানের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোয় তুরস্কের ভূমিকা যে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাচ্ছে, এই পুরস্কার তা-ই প্রমাণ করে।
পুরস্কার গ্রহণ অনুষ্ঠানে এরদোয়ান গাজায় গত দুই বছর ধরে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে কঠোর ভাষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতাল ধ্বংস, রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মী হত্যার মতো ভয়াবহ অপরাধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহল যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমনকি ইনকিউবেটারে থাকা অকালজাত শিশুদেরও রক্ষা করা যায়নি—এই বাস্তবতা বিশ্বের বিবেককে নাড়া দেওয়ার কথা হলেও, তা ঘটছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এরদোয়ান বলেন, “যেদিন বিশ্ব মানবতা একটি জীবন বাঁচানোর আনন্দ ভাগ করে নেবে, সেদিন পৃথিবী স্বর্গে পরিণত হবে।” তিনি জানান, তুরস্ক সেই মানবিক লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। বিশেষ করে গাজা থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের তুরস্কে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, মেডিকেল সরঞ্জাম পাঠানো এবং আন্তর্জাতিকভাবে ইস্যুটিকে জোরালোভাবে তুলে ধরা—এসবই তুরস্কের চলমান মানবিক প্রচেষ্টার অংশ।
তিনি আরও জানান, গত ২৩ বছরে তুরস্ক তার স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে, জনসাধারণের জন্য সাশ্রয়ী ও আধুনিক চিকিৎসা সেবার সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমানে ১.৪৭ মিলিয়নেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে দেশের ৮৬ মিলিয়ন মানুষকে “প্রথম শ্রেণির” স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে—যা তুরস্কের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সক্ষমতা ও উন্নয়নের বড় উদাহরণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এ পুরস্কার তুরস্কের আন্তর্জাতিক মানবিক নীতি এবং এরদোয়ানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে গাজা সংকটের সময় মানবিক সহায়তায় ধারাবাহিক ভূমিকা রাখায় এই সম্মাননা তুরস্কের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে বিশ্লেষকদের মত।
সূত্র : আমার দেশ
