ময়মনসিংহের ভালুকায় গণপিটুনিতে নিহত হিন্দু যুবক দিপু চন্দ্র দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম নিয়ে কটূক্তির কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব জানায়, মহানবী (সা.) কিংবা ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে কেউ নিজে শুনেছেন বা দেখেছেন— এমন কোনো সাক্ষী পাওয়া যায়নি। শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুরে র্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-১৪ এর পরিচালক নাঈমুল হাসান।
তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত নৃশংস ও অনাকাঙ্ক্ষিত। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একজন মানুষকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া এবং পরে তাকে হত্যা করে লাশে আগুন দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। র্যাব জানায়, ঘটনার দিন বিকাল পাঁচটার দিকে উত্তেজনা শুরু হলেও পুলিশকে জানানো হয় রাত আটটার দিকে, যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তোলে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনকে র্যাব এবং ৩ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন— লিমন সরকার, তারেক হোসেন, মানিক মিয়া, এরশাদ আলী, নিজুম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন ও মিরাজ হোসেন আকন। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন— আজমল হাসান সগীর, শাহিন মিয়া ও নাজমুল। র্যাব জানিয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ফ্যাক্টরির ভেতরে কিছু শ্রমিক দলবদ্ধভাবে দিপু চন্দ্র দাসকে মারধর শুরু করেন এবং তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তোলা হয়। পরে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি চায়ের দোকানে বসে কটূক্তি করেছেন— যদিও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। একপর্যায়ে ফ্যাক্টরির বাইরে ও আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন জড়ো হয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে ফ্যাক্টরির প্রডাকশন ম্যানেজার তাকে বরখাস্ত করে বাইরে বের করে দেন বলে জানায় র্যাব।
নিহতের চাচাতো ভাই কার্তিক চন্দ্র দাস দাবি করেছেন, ফ্যাক্টরির ভেতরে পূর্বের কিছু ঘটনার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার এক বিবৃতিতে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না
সূত্র : Desh TV
