বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। দেশে ও বিদেশে মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের ভেতরে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা এবং বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। বুধবার (১ ডিসেম্বর) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের লক্ষ্যে অগ্রাধিকারভিত্তিতে চিহ্নিত ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কেস নিয়ে গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব কেসে ইতোমধ্যে ১০৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, ১৪টি মামলায় চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং চারটি মামলায় আদালত রায় দিয়েছেন। এছাড়া ১১টি অগ্রাধিকার কেসের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে ২১টি এমএলএআর (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স রিকোয়েস্ট) পাঠানো হয়েছে।
সভায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দ্রুত চার্জশিট দাখিল, আরও এমএলএআর পাঠানো এবং মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বিশেষ করে ২০২৭-২৮ মেয়াদে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি) কর্তৃক বাংলাদেশের চতুর্থ পর্বের মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনকে সামনে রেখে সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভা শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের জানান, বিদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে সাধারণত চার থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। তবে যুক্তরাজ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের সম্পদ জব্দ সংক্রান্ত মামলায় কিছু অর্থ ফেরত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সেই অর্থ কবে দেশে আসবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সার্বিকভাবে সরকার পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করেছে বলে সভায় জানানো হয়।
সূত্র : The Delta Lens
