নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ের ইতিহাস অংশে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে যুক্ত হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে এবার ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের সামনে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরা হলো।
এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যবই পরিমার্জনের উদ্যোগ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবছর ইতিহাসের পাঠে এই গণ-অভ্যুত্থান যুক্ত করা হয়। এর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে কবিতা, গদ্য, প্রবন্ধ ও গ্রাফিতি যুক্ত হলেও সেগুলো ছিল সাহিত্যের অংশে সীমাবদ্ধ।
ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’ অধ্যায়ের শেষাংশে ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান’ শিরোনামে নতুন পাঠ যুক্ত হয়েছে। এতে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরা হয়েছে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বইয়ে বিষয়বস্তুর পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে তুলনামূলকভাবে বিস্তারিতভাবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, শহীদ ও আহতদের সংখ্যা এবং জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পাঠ্যবইয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও এসেছে। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি অনেক ক্ষেত্রে বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য-কণিকা বই থেকে ৭ মার্চের ভাষণভিত্তিক গদ্য ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বাদ দেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির সাবেক চেয়ারম্যান এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ইতিহাসের অংশে গণ-অভ্যুত্থান যুক্ত করা একটি ভালো সিদ্ধান্ত, তবে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সংযোজন শিক্ষার্থীদের গণতন্ত্র, নাগরিক চেতনা ও রাজনৈতিক ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সূত্র : Prothom Alo
