Falcon Feed

গুম কমিশনের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ

গুম কমিশনের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়াবহ চিত্র প্রকাশ

গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) গুলশানে কমিশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মাইনুল ইসলাম চৌধুরী এই প্রতিবেদন তুলে ধরেন। এর আগের দিন রোববার (৪ জানুয়ারি) কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গুমের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে র‍্যাবের বিরুদ্ধে। মোট অভিযোগের প্রায় ২৫ শতাংশে র‍্যাবের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এর পরেই রয়েছে পুলিশ, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের হার ২৩ শতাংশ। এছাড়া ডিবি, সিটিটিসি, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গুমের অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলামত নষ্ট করার ক্ষেত্রেও র‍্যাবের সম্পৃক্ততা সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

কমিশন জানায়, বহু ঘটনায় সাদাপোশাকধারী ব্যক্তি বা প্রশাসনের লোক পরিচয়ে মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে। র‍্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার একক ও যৌথ অভিযানে এসব গুম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যায়, এগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রমের ইঙ্গিত বহন করে। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পৃথকভাবে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।

কমিশনের তথ্যমতে, মোট ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সক্রিয়ভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ এবং ৩৬ জনের গুম-পরবর্তী লাশ উদ্ধার হয়েছে। তদন্ত চলাকালে ২২২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ৭৬৫ জন গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কমিশন সরকারি বিভিন্ন সংস্থার নথি যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি স্বীকৃত ও গোপন—এমন মোট ৪০টি আটক কেন্দ্র পরিদর্শন করেছে।

প্রতিবেদনের আলোকে গৃহীত পদক্ষেপ ও অগ্রগতির বিষয়ে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র : Daily Ittefaq

Related Articles