সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আসির প্রদেশের বাসিন্দা শেখ আলি আল-আলকামি ১৪২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাকে দেশটির আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘজীবী মানুষ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছিল। মৃত্যুকালে তিনি তার পরিবারে সন্তান, নাতি-নাতনি এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম মিলিয়ে মোট ১৩৪ জন সদস্য রেখে গেছেন।
শেখ আল-আলকামির দীর্ঘায়ুর রহস্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ছিল। তার পারিবারিক সূত্র এবং ঘনিষ্ঠজনদের মতে, তিনি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং সাধারণ জীবনযাপন করতেন। আধুনিক প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে তিনি সবসময় জৈব এবং প্রাকৃতিক খাবারের ওপর নির্ভর করতেন। বিশেষ করে তার খাদ্যতালিকায় নিজের খামারের গম, মধু এবং পাম ফল থাকতো নিয়মিত। তিনি কখনও কৃত্রিম পানীয় বা প্রক্রিয়াজাত চিনি গ্রহণ করতেন না।
শারীরিক পরিশ্রম ছিল তার দীর্ঘ জীবনের অন্যতম চাবিকাঠি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত তিনি হেঁটে মসজিদে যাতায়াত করতেন এবং পরিবারের কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। মানসিকভাবেও তিনি অত্যন্ত দৃঢ় ছিলেন এবং শেষ সময় পর্যন্ত তার স্মৃতিশক্তি ছিল প্রখর। তিনি সৌদি আরবের রাজবংশের পরিবর্তনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং দেশটির আধুনিক হয়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়াটি নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছেন।
তার মৃত্যুতে আসির প্রদেশসহ পুরো সৌদি আরবে শোকের আবহ বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে তাকে “ঐতিহ্যের জীবন্ত দলিল” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার বিশাল পরিবার এখন তার আদর্শ ও সুস্থ জীবনধারার স্মৃতি বয়ে নিয়ে চলছে। তিনি কেবল একটি পরিবারের প্রধান ছিলেন না, বরং এক শতাব্দী ধরে টিকে থাকা ধৈর্য ও সুস্থতার প্রতীক ছিলেন।
সূত্র : gulfnews
