বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (সিইটিসি) এর কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে একটি সামরিক ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।
গত ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্প প্রস্তাবটির অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই প্রস্তাবটিতে সম্মতি প্রদান করেন। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো দেশে আনম্যানড এরিয়াল ভ্যাহিকেল (UAV) বা ড্রোন তৈরি এবং এর প্রযুক্তিগত জ্ঞান (Technology Transfer) বাংলাদেশে নিয়ে আসা।
প্রকল্পের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত দিক:
- বাজেট বিভাজন: মোট বাজেটের মধ্যে ৫৭০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয় হবে প্ল্যান্ট স্থাপন ও প্রযুক্তি আমদানির কাজে। বাকি ৩৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে এলসি চার্জ ও ভ্যাট বাবদ।
- পরিশোধ প্রক্রিয়া: এই বিশাল অঙ্কের অর্থ চার অর্থবছরে (২০২৪-২৫ থেকে ২০২৮-২৯) কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।
- বাস্তবায়নকারী সংস্থা: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এই প্রকল্পটি সরাসরি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের জন্য বিমান বাহিনীকে বাড়তি কোনো বাজেট দেওয়া হবে না; বরং তাদের বর্তমান বাজেটের ‘অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি’ খাত থেকে এই ব্যয় মেটানো হবে।
গুরুত্ব ও প্রভাব: এই কারখানাটি স্থাপিত হলে বাংলাদেশ কেবল ড্রোন ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে নয়, বরং উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এটি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। নিজস্ব কারখানায় ড্রোন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের ফলে দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং সামরিক বাহিনী প্রযুক্তিগতভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এই পদক্ষেপটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র :tbsnews
