Falcon Feed

রায়েরবাজার গণকবর: জুলাই আন্দোলনে শহীদ ১১৪ মরদেহের পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ, বিচারের আশ্বাস স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

রায়েরবাজার গণকবর: জুলাই আন্দোলনে শহীদ ১১৪ মরদেহের পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ, বিচারের আশ্বাস স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে, ঢাকার রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে গণকবরে শায়িত ১১৪টি মরদেহ শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আজ সকালে রায়েরবাজার কবরস্থানে শহীদদের গণকবর পরিদর্শনের পর এই ঘোষণা দেন। তিনি জানিয়েছেন, শহীদদের পরিবারবর্গ চাইলে শনাক্তকরণের পর মরদেহ তাদের ইচ্ছানুযায়ী স্থানে দাফন করতে পারবেন।

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “রায়ের বাজারের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের গণকবরে থাকা ১১৪টি মরদেহ শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। পরিবার চাইলে কবর থেকে তুলে পোস্টমর্টেম করা হবে। কেউ চাইলে মরদেহ নিয়ে তার ইচ্ছা মতো জায়গায় কবর দিতে পারবে।”

এই গণকবর তৈরির পেছনে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “যারা গণকবর দিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”

জুলাই আন্দোলন ও গণকবরের প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশব্যাপী কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার আন্দোলন এক পর্যায়ে সহিংস রূপ নেয়। তৎকালীন সরকারের দমন-পীড়নে বহু মানুষ হতাহত হন, যাদের মধ্যে অনেকেরই পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে, অজ্ঞাত হিসেবে শতাধিক ব্যক্তিকে রায়েরবাজার কবরস্থানে গণকবর দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের এক ভয়াবহ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।

অনেক পরিবার তাদের নিখোঁজ সদস্যদের সন্ধান না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিনযাপন করছিলেন। সরকারের এই নতুন উদ্যোগ সেইসব শোকসন্তপ্ত পরিবারের জন্য কিছুটা হলেও সান্ত্বনা বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া ও পরিবারের ভূমিকা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, মরদেহ শনাক্তকরণের প্রক্রিয়ায় শহীদদের পরিবারের সম্মতি ও অংশগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ডিএনএ পরীক্ষাসহ অন্যান্য আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এই জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

রায়েরবাজার পরিদর্শনের পূর্বে মোহাম্মদপুর থানা পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গোপন বৈঠক সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুপ্ত মিটিং আইনশৃঙ্খলায় প্রভাব ফেলবে না। নাশকতার অপচেষ্টা শক্ত হাতে দমন করা হবে।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে বা যারাই ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকবে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য যেকোনো বাহিনীর যেই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং গণকবরের জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার এই সরকারি ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং স্বজনহারা পরিবারগুলোর দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। একই সাথে, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের কঠোর অবস্থানকেও স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে।

সূত্র : Ittefaq

Related Articles