১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত। এই দিনটি স্মরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে দোয়া-মিলাদ মাহফিল ও আলোচনার আয়োজন করা হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় কক্সবাজারের টেকনাফে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।রবিবার (১৭ আগস্ট ২০২৫) দুপুরে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলে দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাধারণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্ট শহীদ পরিবারের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। এছাড়া, দেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর অবদানের কথা স্মরণ করে বক্তারা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার আহ্বান জানান।তবে অনুষ্ঠান চলাকালীন পুলিশ হঠাৎ করে উপস্থিত হয়ে ছয় জন স্থানীয় নেতাকে আটক করে। পুলিশ জানায়, মাহফিল আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পূর্বানুমতি নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বার্থে তাদের আটক করা হয়েছে বলে দাবি করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক হওয়া ব্যক্তিদের স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।এ ঘটনায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল করা একটি স্বাভাবিক আয়োজন, এখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। তাদের অভিযোগ, বিনা অপরাধে নেতাদের আটক করা রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ।অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বড় ধরনের সমাবেশ আইনত বৈধ নয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।ঘটনাটি টেকনাফে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীর মতো একটি জাতীয় শোক দিবসে মানুষের শোক প্রকাশে বাধা দেওয়া হলে তা গণমানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
