Falcon Feed

ভারতে অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ: বিপাকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসর ড্রিম–১১

ভারতে অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ: বিপাকে ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসর ড্রিম–১১

ভারতের সংসদে সম্প্রতি অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধকরণ বিল পাস হওয়ার পর দেশটির বৃহৎ অনলাইন গেমিং শিল্প গভীর সংকটে পড়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অনলাইন জুয়া প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন মানুষ থেকে ২.৩ বিলিয়ন ডলার আয় করছিল। নতুন আইনটি মূলত কার্ড গেম, পোকার এবং ফ্যান্টাসি স্পোর্টস—বিশেষ করে ভারতের জনপ্রিয় ফ্যান্টাসি ক্রিকেট অ্যাপগুলিকে নিষিদ্ধ করেছে।এর ফলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান স্পনসর ড্রিম–১১-কে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে ড্রিম–১১ তিন বছরের জন্য টিম ইন্ডিয়ার জার্সিতে প্রধান স্পনসর হিসেবে যুক্ত হয়। কিন্তু আইন কার্যকর হলে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি মেনেই তারা সিদ্ধান্ত নেবে।নতুন আইনের অধীনে, অনলাইন জুয়ার প্রস্তাব, প্রচার কিংবা অর্থায়নের সঙ্গে জড়িত যে কেউ সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। ড্রিম–১১ ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা “ক্যাশ গেম ও কনটেস্ট” বন্ধ করে দিয়েছে, তবে অন্য কিছু ফ্রি গেম চালু থাকবে।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আইন মূলত আসক্তি, আর্থিক ধ্বংস ও সামাজিক সংকট রোধে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও বলেছেন, এই আইন ই–স্পোর্টস ও শিক্ষামূলক গেমকে উৎসাহ দেবে, তবে একই সঙ্গে সমাজকে অনলাইন টাকার জুয়ার ক্ষতিকর দিক থেকে রক্ষা করবে।ভারতের গেমিং শিল্প বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজার হলেও এবার থেকে শুধুমাত্র ই–স্পোর্টস ও শিক্ষামূলক অনলাইন গেম ব্যতিক্রম হিসেবে অনুমোদন পাবে। অন্যদিকে, শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বলছে, সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণ ও কর আরোপ করলেই ভালো হতো। কারণ এতে খেলোয়াড়রা অবৈধ অফশোর প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ার কারণে ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠী আর্থিক ক্ষতি, আসক্তি এবং আত্মহত্যার মতো চরম পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। এছাড়া এটি প্রতারণা, মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়নেও ব্যবহৃত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন

Related Articles