ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে দেড় বছর সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন তিন বাংলাদেশি নাগরিক। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা তিনজন হলেন—চট্টগ্রামের মলি বেগম (৩৬), লক্ষ্মীপুরের মো. ইউসুফ আলী (৪৩) এবং রোনা বেগম (৩২)।সূত্রে জানা যায়, দালালের মাধ্যমে ২০২১ সালের ২১ মার্চ রাতে এই তিন বাংলাদেশি ভারতে প্রবেশ করেন। দীর্ঘদিন অবস্থানের পর ২০২৪ সালের ৩০ এপ্রিল ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা থানা পুলিশ তাদের আটক করে। পরবর্তীতে আদালতে সোপর্দ করলে অবৈধ অনুপ্রবেশ আইনে তাদের দেড় বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা শেষে ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হলো।বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস হোসেন মুন্সি বলেন, সাজা শেষে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ তিন বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি বেসরকারি এনজিওর মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলছে।সীমান্তবর্তী অঞ্চলে দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ ও আটক হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। দারিদ্র্য, কর্মসংস্থানের অভাব এবং ভালো জীবনের আশায় অনেক বাংলাদেশি বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। এতে তাদের পরিবারগুলোকে সামাজিক ও আর্থিক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় দালালচক্রকে আইনের আওতায় আনা এবং সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। একইসঙ্গে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করলে মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে বিদেশে প্রবেশের চেষ্টা থেকে বিরত থাকবে।এই তিন বাংলাদেশির দেশে ফেরার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে স্বস্তি ফিরেছে। পরিবারগুলোও তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
