বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ বদরুদ্দীন উমর আর নেই। রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর। হাসপাতালের চিকিৎসকরা সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। রবিবার ভোরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবার তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়, তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম।বদরুদ্দীন উমরের জন্ম ১৯৩১ সালে। তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে। পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। শুধু শিক্ষকতা নয়, গবেষণা ও লেখালেখিতেও তিনি সমানভাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।রাজনীতির মঞ্চেও বদরুদ্দীন উমর ছিলেন সক্রিয়। তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আজীবন মার্কসবাদী চেতনায় বিশ্বাসী উমর একসময় পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংগঠনটির সভাপতি ছিলেন।তার গবেষণা ও লেখালেখির মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলন, কৃষক সংগ্রাম এবং সমাজ কাঠামো নিয়ে গভীর বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। এ কারণে তিনি একদিকে যেমন ছিলেন শিক্ষাবিদ, অন্যদিকে রাজনৈতিক তাত্ত্বিক ও কর্মী হিসেবেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।বদরুদ্দীন উমরের মৃত্যুতে সাহিত্য, গবেষণা ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশের বামপন্থী আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
