Falcon Feed

বাগরাম ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ফেরত চাইলে ট্রাম্প, তালেবানের কঠোর প্রত্যাখ্যান

বাগরাম ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ফেরত চাইলে ট্রাম্প, তালেবানের কঠোর প্রত্যাখ্যান

আফগানিস্তানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাগরাম বিমানঘাঁটি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দেন, তিনি এই বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ফেরত নিতে চান। তবে তালেবান সরকার তার প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। খবর বিবিসির।আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানায়, তালেবান ক্ষমতায় ফেরার আগে আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বহাল রাখার প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাই এখন আবার নতুন করে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি তারা কোনোভাবেই চায় না। তালেবান সরকারের মতে, দেশের সার্বভৌমত্বের সঙ্গে আপস না করাই তাদের প্রধান অঙ্গীকার।বাগরাম ঘাঁটিকে আফগানিস্তানে মার্কিন সমরশক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। কাবুল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঘাঁটি কেবল আফগানিস্তান নয়, সমগ্র মধ্য এশিয়ার জন্য একটি কৌশলগত কেন্দ্র। বিশেষ করে চীনের সীমান্ত থেকে এর দূরত্ব মাত্র এক ঘণ্টার। তাই এই ঘাঁটি থেকে সহজেই আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার সম্ভব।ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার বলেছেন, বাগরাম ঘাঁটিকে তিনি আফগানিস্তানের কারণে নয়, বরং চীনের মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। গত মার্চ মাসে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, চীনের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণকেন্দ্রগুলোর অবস্থান বাগরাম থেকে খুব কাছেই, তাই এই ঘাঁটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি। গত বৃহস্পতিবারও তিনি একই বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাগরাম বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে। একদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এই ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ ফেরত পাওয়ার মাধ্যমে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে; অন্যদিকে, তালেবান সরকার তাদের সার্বভৌমত্বে কোনো হস্তক্ষেপ মেনে নিতে নারাজ। এর ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-আফগানিস্তান সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ বিষয়টি ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকের মতে, বাগরাম ঘাঁটি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ মূলত চীনকে ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। সূত্র : যমুনা টিভি

Related Articles