Falcon Feed

ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলের খাবারে বিষক্রিয়া: উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের আড়ালে হাজারো শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি

ইন্দোনেশিয়ায় স্কুলের খাবারে বিষক্রিয়া: উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের আড়ালে হাজারো শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি

ইন্দোনেশিয়া জুড়ে তোলপাড়। স্কুল থেকে সরবরাহ করা বিনামূল্যের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে হাজার হাজার শিশু। উচ্চাভিলাষী এক মহৎ উদ্যোগের বাস্তবায়নে এমন বিরাট ঘাটতি, অবহেলা আর দুর্নীতির অভিযোগের তীর এখন সরাসরি সরকারের দিকে। প্রশ্ন উঠছে, শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার এই প্রকল্পটিই কি এখন তাদের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে?

এই সপ্তাহের শুরুটা পশ্চিম জাভার শিশুদের জন্য ছিল বিভীষিকাময়। সোমবার থেকে বুধবারের মধ্যে, সিপংকোর নামের একটি এলাকার কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের প্রধান, ইউয়ুন সারিহোতিমা, বিবিসি ইন্দোনেশিয়াকে জানান যে, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১,২৫৮ জনে পৌঁছেছে। পেটে তীব্র ব্যথা, মাথা ঘোরা এবং বমি বমি ভাবের মতো সাধারণ উপসর্গের পাশাপাশি অনেকের শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর লক্ষণও দেখা দিয়েছে, যা সাধারণত খাদ্যে বিষক্রিয়ার ক্ষেত্রে বিরল।

তবে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মাত্র গত সপ্তাহেই পশ্চিম জাভা এবং মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশে প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী একই ধরনের বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছিল। একের পর এক এই ঘটনাগুলো ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর স্বপ্নের প্রকল্প, “পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি”র দিকে আঙ্গুল তুলেছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য দেশের ৮ কোটি স্কুলশিশুকে বিনামূল্যে দুপুরের খাবার সরবরাহ করা, যা তার সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি।

কিন্তু মহৎ এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে পড়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলো (এনজিও) খাদ্যে বিষক্রিয়ার পুনরাবৃত্তির কারণে তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। তাদের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি অবিলম্বে স্থগিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।

পশ্চিম জাভার গভর্নর ডেডি মুলিয়াদি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তার প্রদেশের চারটি ভিন্ন এলাকায় খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুধুমাত্র পশ্চিম বান্দুংয়েই সোমবার ৪৭০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর দুদিন পর, বুধবার, সেখানে এবং সুকাবুমি অঞ্চলে আরও তিনটি ঘটনায় কমপক্ষে ৫৮০ জন শিশু আক্রান্ত হয়।

এত বড় জনস্বাস্থ্য সংকটের মুখেও সরকার প্রকল্পটি বন্ধ করার পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়েছে। কমিউনিটি ক্ষমতায়নের সমন্বয়কারী মন্ত্রী মুহাইমিন ইস্কান্দার জোর দিয়ে বলেছেন যে, কর্মসূচিটি চলবে। এই ঘটনায় বারবার প্রকল্পের মান, তদারকি এবং খাদ্য প্রস্তুতির প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। এতকিছুর পরেও, দেশটিতে এই বিনামূল্যের খাদ্য কর্মসূচি দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করে চলেছে।

এই পরিস্থিতি একদিকে যেমন সরকারের একটি জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপকে প্রশংসা করার সুযোগ দেয়, তেমনই অন্যদিকে হাজার হাজার শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলার এক ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরে। মহৎ উদ্দেশ্য থাকলেই যে তার বাস্তবায়ন সফল হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। ইন্দোনেশিয়ার এই ঘটনাটি তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ। এখন দেখার বিষয়, সরকার কি শিশুদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পের ত্রুটিগুলো সংশোধন করবে, নাকি সমালোচনার ঝড় উপেক্ষা করে তাদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়েই এগিয়ে যাবে।

এই ভিডিওটি ইন্দোনেশিয়ায় বিনামূল্যে স্কুলের খাবার কর্মসূচির পরে ঘটা গণ খাদ্যে বিষক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রদান করে।

Related Articles