বাংলাদেশে তামাকজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে মৃত্যুর শীর্ষ ১০ কারণের মধ্যে ৪টি সরাসরি ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে প্রায় ৮০% পুরুষ ফুসফুস ক্যান্সার রোগী ধূমপায়ী। এ পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি **জনস্বাস্থ্য সংকট**, যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।যদিও তামাক খাত থেকে সরকার রাজস্ব আয় করে থাকে, বিশেষজ্ঞদের মতে এ আয়ের বিনিময়ে মানুষের জীবন ও জাতির উৎপাদনশীলতাকে ধ্বংস হতে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি ও বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক ব্যবহার হ্রাস করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।এই প্রেক্ষাপটে **২০২১ সাল থেকে ঝুলে থাকা ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধনের প্রস্তাব** দ্রুত চূড়ান্ত ও কার্যকর করার তাগিদ উঠেছে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য নীতি।বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে “তামাকমুক্ত দেশ গড়ার” প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তা এখনও কেবল স্বপ্ন হয়েই রয়ে গেছে। অথচ বাস্তবতা হলো, স্বল্পমেয়াদী অর্থনৈতিক লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় স্বাস্থ্য ও কল্যাণকে বলি দেওয়া হচ্ছে।তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি জোরদার করা হলে শুধু মৃত্যুহার কমবে না, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপও কমবে। পাশাপাশি কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো—জনগণ একটি স্বাস্থ্যকর সমাজে বেড়ে উঠবে, যা টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।এখন প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সামাজিক প্রতিশ্রুতি। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ হয়তো আপাতদৃষ্টিতে কঠিন লক্ষ্য, কিন্তু কার্যকর নীতি, কঠোর আইন প্রয়োগ, এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব। স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে তামাকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়াই হবে একটি **সুস্থ বাংলাদেশ গড়ার প্রথম পদক্ষেপ**।
সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
