বাংলাদেশের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যে এক অনন্য পাখির নাম বড় কুবো বা Greater Coucal (Centropus sinensis)। কালচে-নীল চকচকে পালক, গাঢ় লালচে-বাদামী ডানা এবং গভীর “কুপ-কুপ” ডাক—সব মিলিয়ে এটি এক রহস্যময় সৌন্দর্যের প্রতীক। দেশজুড়ে গ্রামীণ আঙিনা, ঝোপঝাড়, কিংবা শহরতলির বাগানেও এই পাখিকে দেখা যায়। যদিও এটি কোকিল পরিবারের সদস্য, তবুও অন্যান্য কোকিলদের মতো পরজীবী নয়; বরং নিজের বাসা বানিয়ে ভালোবাসা দিয়ে ছানাদের লালন-পালন করে।ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের ভেতরেও এই পাখি তার স্বতন্ত্র উপস্থিতি জানান দেয়। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এটি এক মুগ্ধকর দৃশ্য, বিশেষত যখন সকালের আলোয় এর রঙিন পালক ঝলমল করে ওঠে। নাসের আহমেদ, একজন নিবেদিতপ্রাণ পাখি ও বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী, ঢাকা শহরের একটি বাগানে এই অসাধারণ ছবিটি ধারণ করেছেন। তার লেন্সের মাধ্যমে বড় কুবোর সৌন্দর্য ও মর্যাদা যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতিতে বড় কুবোকে ঘিরে আছে নানা কুসংস্কার ও বিশ্বাস। অনেকেই মনে করেন, এই পাখির ডাক আসন্ন বৃষ্টি বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের বার্তা দেয়। আবার কেউ কেউ একে শুভ লক্ষণ হিসেবেও দেখে। প্রকৃতপক্ষে, বড় কুবো প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—এটি ছোট সরীসৃপ, পোকামাকড় ও ব্যাঙ খেয়ে পরিবেশের স্বাস্থ্যে অবদান রাখে।নাসের আহমেদের তোলা এই ছবিটি শুধু একটি পাখির প্রতিচ্ছবি নয়, বরং এটি আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগের এক স্মারক। ক্রমবর্ধমান নগরায়নের যুগে, এমন পাখিদের উপস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শহরেও প্রকৃতির ছোঁয়া এখনো টিকে আছে—শুধু আমাদের চোখ খুলে দেখতে জানতে হবে।সূত্র : ঢাকা ট্রিবিউন
